Wall Street থেকে Gillette · বাংলা সংস্করণ · নং 15
Pretty Woman, ফ্রেগা & Wall Street
Wall Street গাথা
কিছু ছবি ক্লাসিক হয়ে ওঠে। কিছু হয়ে ওঠে আয়না।
Pretty Woman দুটোই হয়েছে।
লাখ লাখ মানুষ ছবিটা দেখেছে আর দেখেছে একটা প্রেমের গল্প।
আমি আবার দেখলাম, আর দেখলাম অন্য কিছু।
দেখলাম ঐশ্বর্যের ছদ্মবেশে নিঃসঙ্গতার একটা ছবি।
স্বপ্নবিলাসীদের জন্য বানানো ছবি, বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিল সেখানে কখনো পৌঁছায়নি আর বাস্তবের বদলে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে কল্পনার ভেতরে।
এত বছরে আমি শিখেছি, ছবি কখনো কাহিনির মধ্যে তার গোপন কথা ফাঁস করে না। আকর্ষণীয় অংশগুলো লুকিয়ে থাকে খুঁটিনাটিতে।
এডওয়ার্ড লুইস অর্থজগতের এক মহারথী।
সে কোম্পানি কিনতে পারে।
সে হোটেল কিনতে পারে।
দাম না দেখেই সে একটা বাড়ির গোটা একটা তলা কিনে ফেলতে পারে।
অথচ সে একজন নারী খুঁজে পায় না।
সেই কারণেই শেষে হলিউডের এক রাস্তায় তার একজনের সঙ্গে দেখা হয়।
সে যৌনতা খুঁজছে বলে নয়।
সে সংযোগ খুঁজছে বলে।
পরিহাসটা প্রায় যন্ত্রণাদায়ক।
সে যত ধনী হয়, যে একটিমাত্র জিনিস সে কিনতে পারে না, তার থেকে যেন তত দূরে সরে যায়।
লোকে প্রায়ই বলে, মেয়েরা ধনী পুরুষ খোঁজে।
আমার অভিজ্ঞতা কখনো তা বলেনি।
বেশির ভাগ নারী ঐশ্বর্য খোঁজে না।
তারা খোঁজে স্থিতি।
টাকাটা সাধারণত একটা হাতিয়ার মাত্র।
টেবিলে খাবার।
সন্তানদের নিরাপত্তা।
ভালোবাসার মানুষগুলোর সুরক্ষা।
নারী ভাবে মানুষের হিসেবে।
পুরুষ প্রায়ই ভাবে সম্পদের হিসেবে।
এই তফাতটুকু মানুষের ইতিহাসের যতটা ব্যাখ্যা দেয়, অর্থনীতির বেশির ভাগ পাঠ্যবই ততটা দেয় না।
তারপর আছে পেন্টহাউস স্যুট।
সেরা ঘর।
সবচেয়ে উঁচু তলা।
সেই রকম দৃশ্য, যা সফল মানুষদের উপভোগ করার কথা।
শুধু এডওয়ার্ড তা উপভোগ করতে পারে না।
উচ্চতায় তার ভয়।
বাড়িটার সবচেয়ে উঁচু বিন্দুর মালিক সে, অথচ কখনো সত্যি করে বাইরে তাকায় না।
এ রকম অনেক মানুষকে আমি চিনি।
তারা গোটা জীবন কাটিয়ে দেয় ওপরে উঠতে উঠতে।
তারপর চূড়ায় পৌঁছে আবিষ্কার করে, দৃশ্যটাকেই তাদের ভয়।
পরে সে স্বীকার করে, বাবার কোম্পানিটা কিনে তার ভালো লেগেছিল।
বাক্যটা নিয়ে একটু ভাবো।
একজন ধনকুবের কিনছে আবেগের আশ্বাস।
একটা কর্পোরেট অধিগ্রহণ ব্যবহৃত হচ্ছে থেরাপি হিসেবে।
কোম্পানিটা কখনোই লক্ষ্য ছিল না।
লক্ষ্য ছিল অনুভূতিটা।
ব্যালান্স শিট ছিল নিছক সরবরাহের ব্যবস্থা।
তারপর আসে আমার প্রিয় মুহূর্ত।
ঘাস।
মেয়েটি তাকে খালি পায়ে হাঁটতে বলে।
কোনো বোর্ডরুম নেই।
কোনো উকিল নেই।
কোনো দর-কষাকষি নেই।
শুধু একজন মানুষ, যে পায়ের নিচে মাটি টের পাচ্ছে।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য Wall Street-এর প্রধান পুরোহিত আবার জুড়ে যায় টাকার চেয়েও পুরোনো একটা কিছুর সঙ্গে।
বাস্তব।
প্রকৃতি কখনো বিল পাঠায় না।
সেই কারণেই এত সফল মানুষ শেষমেশ তার অভাব বোধ করে।
পরের স্ববিরোধটা আরও ভালো।
যে নারীকে সে গোড়ায় ভাড়া করেছিল, তারই মর্যাদা সে রক্ষা করে।
মেয়েটির সম্মানের প্রশ্নে সে নিজেরই এক সহযোগীর মুখোমুখি দাঁড়ায়।
যে ব্যবসায়ী সম্পর্কটায় ঢুকেছিল এই বিশ্বাস নিয়ে যে সব কিছুরই একটা দাম আছে, সে হঠাৎ আবিষ্কার করে, কিছু জিনিসের নেই।
শ্রদ্ধা।
মর্যাদা।
মমতা।
আস্থা।
বাজার জিনিসের দাম ঠিক করতে ওস্তাদ।
জিনিসের মূল্য বুঝতে সে একেবারে অপদার্থ।
ছবিটা ওখানেই শেষ হতে পারত।
শিক্ষাটা ততক্ষণে সম্পূর্ণ।
কিন্তু হলিউড মানুষের দুর্বলতা বেশির ভাগ দার্শনিকের চেয়ে ভালো বোঝে।
বাস্তব কদাচিৎ ব্লকবাস্টার হয়।
কল্পনা হয়।
তাই এডওয়ার্ড ফিরে আসে লাল গোলাপ নিয়ে।
লিমুজিন এসে দাঁড়ায়।
বাজনা চড়ে ওঠে।
রূপকথাটা পৌঁছে দেওয়া হয় একেবারে সময়সূচি মেনে।
আর দর্শক বেরিয়ে যায় এই বিশ্বাস নিয়ে যে ভালোবাসা টাকাকে হারিয়ে দিয়েছে।
আমি অতটা নিশ্চিত নই।
আমার মনে হয়, ছবিটা টিকে আছে কারণ সে অন্য একটা গল্প বলে।
ধনী পুরুষের হাতে এক নারীর উদ্ধার পাওয়ার গল্প নয়।
এক ধনী পুরুষের নিজের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার গল্প।
দামি স্যুট পরা পুরুষেরা যে দশকের পর দশক এই ছবিটা ভালোবেসেছে, তার একটা কারণ আছে।
তারা ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখে বলে নয়।
তাদের অনেকেই আগে থেকেই ধনী।
তারা ছবিটা দেখে, কারণ তাদের সন্দেহ হয়, পরের চুক্তি, পরের অধিগ্রহণ, পরের বোনাস, পরের জয়ের ওপারে নিশ্চয়ই কিছু একটা আছে।
তারা প্রমাণ খুঁজেই চলে।
তাদের অনেকের কাছে Pretty Woman-ই প্রমাণ।
দু ঘণ্টার এক কল্পকাহিনি, যা ইঙ্গিত দেয় যে মাপমতো বানানো স্যুটের নিচে হয়তো এখনো একজন মানুষ আছে।
তা, পর্দায় নামের তালিকা ফুরিয়ে গেলে কী পড়ে থাকে?
গোলাপ নয়।
পেন্টহাউস নয়।
টাকা নয়।
প্রেমের গল্পটাও নয়।
যা পড়ে থাকে, তা একটা সরল পর্যবেক্ষণ।
পুরুষ যা কিছু গড়ে, তার শুরুতে পটভূমির কোথাও একজন নারী থাকে।
একজন মা।
একজন বোন।
একজন স্ত্রী।
একজন কন্যা।
একজন অচেনা নারী।
আর আজ হোক কাল হোক, তাকে সেই আদি সত্যে ফিরিয়ে আনার এক অদ্ভুত অভ্যেস আছে জীবনের।
ভুলটা হলো এই বিশ্বাস যে নারীকে কেনা যায়।
যায় না।
বুদ্ধিমানের কাজ হলো মন দিয়ে লক্ষ করা।
আর অপেক্ষা করা।
কারণ বিশেষ ক্ষেত্রগুলো ধরার জন্য নারীদের একটা রাডার আছে।
বেশির ভাগ সময় তারা সেগুলো চিনে ফেলে পুরুষদের ঢের আগেই।
ফের্দিনান্দো ফ্রেগা
BLADEFREGA
Wall Street গাথা
