লোম, L’ORÉAL আর GILLETTE-এর মাঝখানে

লোম, L’Oréal আর Gillette-এর মাঝখানে — Gillette-এর চোখে L’Oréal, অধ্যায় 15

GILLETTE-এর চোখে L’ORÉAL

লোম, L’ORÉAL আর GILLETTE-এর মাঝখানে

L’ORÉAL · 21


লোম এমন এক খুঁটিনাটি ব্যাপার, যা মানুষ বোঝার ভান করে।

লোকে একে বলে স্বাস্থ্যবিধি, নান্দনিকতা, পরিচয়, সংস্কৃতি, আচার।

আসলে এ কেবল একটা সীমানা — তুমি যা দেখাও আর যা লুকোও, তার মাঝখানে।

কেউ একে তুলে দেয় নাপিতের হাতে, কেউ বিউটিশিয়ানের হাতে, কেউ আধুনিক যন্ত্রের হাতে, যে যন্ত্র স্বনির্ভরতা আর নিখুঁত ফলের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু লোম থেকেই যায়, একগুঁয়ে, এক জৈবিক স্মারক হয়ে: সামাজিক জীব হওয়ার আগে তুমি একটা পশু।

তবু সে শত্রু নয়। সে এক অস্বস্তিকর বন্ধু, এক সহযাত্রী, যে মনে করিয়ে দেয় তুমি কোথা থেকে এসেছ। তার বিন্যাস প্রায় কৈশিক, তার রং তোমার জিনের মানচিত্রে বরাদ্দ করা, আর তার এমন এক কাহিনি আছে, যা তুমি মুছতে পারো না। যারা অ্যালোপেশিয়ায় ভোগে, তারাও লোমহীন নয় — তারা কেবল তা হারিয়েছে এমন এক সময়ের জন্য, যার মেয়াদ কেউ বলতে পারে না।

কিন্তু লোমকে বুঝতে হলে ফিরতে হবে উৎসে — যেখানে বারবার ফিরতে হয়: আদিম মানুষের কাছে।

আমি ব্যাপারটা এভাবে কল্পনা করি, প্রাগৈতিহাসিক এক নোয়ার দৃশ্যে। ঘাসের দেয়ালের আড়ালে দুটি অবয়ব কথা বলছে। তৃতীয় একজন এসে পৌঁছয়, আর ঠাহর করতে পারে না কে পুরুষ, কে নারী। মুখ যথেষ্ট নয়। মুখ ঠকায়।

তাই নারীটি ঠিক করে, নিজের পরিচয়ের ভাগ্য সে বদলে দেবে।

সে নদীতে যায়, জলে নিজেকে দেখে, আর দেখতে পায় দাড়ি।

তার পছন্দ হয় না। ওটা তার পরিচয় নয়। ওটা তাকে আলাদা করে না।

সে একটা ধারালো পাথর খুঁজে নেয় আর লোম সরাতে শুরু করে, একটা একটা করে।

সে আবিষ্কার করে, লোম আবার গজায় ধীরে — আর তাতে তার সুবিধা: আচারটা রোজ রোজ করতে হয় না। আর সে আবিষ্কার করে আরও জোরালো একটা কিছু: পুরুষটি তার দিকে অন্য চোখে তাকায়।

পার্থক্য হয়ে ওঠে আকর্ষণ।

পার্থক্য হয়ে ওঠে ভাষা।

সেখান থেকেই জন্ম লোমের গোটা সংস্কৃতির: প্রথমে প্রতীকী, তারপর সামাজিক, তারপর স্বাস্থ্যবিধিগত, তারপর বৈজ্ঞানিক, তারপর মতাদর্শগত।

একেবারে আধুনিক চরমপন্থাগুলো পর্যন্ত: কেউ বলে লোম তোমাকে জীবাণু থেকে বাঁচায়, তাই তা রাখতে হবে; কেউ বলে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা তুলে ফেলতে হবে; কেউ বলে কাম্য হতে হলে তাকে ছাঁটতে-সাজাতে হবে।

সত্যিটা আরও সরল: লোম জন্মায়, বাড়ে, বেঁকে যায়… আর যেখানে বেঁকে যায়, সেখানেই মরে।

কিন্তু গোড়াটা বেঁচে থাকে, একগুঁয়ে, সেইসব ধারণার মতো, যা ইচ্ছাশক্তি দিয়েও উপড়ানো যায় না।

আর তারপর আছে শেষ নিয়মটা, যা শুধু গল্প-বলিয়েরাই জানে:

গোড়াকে কখনও গোঁড়া বানিয়ো না।

তফাত সামান্যই — একটিমাত্র চন্দ্রবিন্দু।

কিন্তু তাতেই সব বদলে যায়।


ফের্দিনান্দো

PDF ← GILLETTE-এর চোখে L’ORÉAL

← শুধু তাদেরই জন্য, Gillette-এর চোখে

GILLETTE-এর চোখে L’ORÉAL00 Gillette & L’Oréal, Women USA — Vol. I · 01 তিনি মৃত। এটা ব্যাখ্যা করো। · 02 Gillette, ফ্রেগা আর L’Oréal · 03 L’Oréal-এর কাছে ধার দেওয়া মিস্টার ফ্রেগা · 04 Gillette & L’Oréal, Women USA — Vol. II · 05 L’Oréal-এর হয়ে তিন দিন বিদেশে · 06 L’Oréal-এর অবিস্মরণীয় মুহূর্ত · 07 খিদে নেই, খ্যাতি আছে: L’Oréal-এর এক মধ্যাহ্নভোজ · 08 Gillette & L’Oréal, Women USA — Vol. III · 09 L’Oréal-এর সঙ্গে এক সেরা পারফিউমারিতে · 10 L’Oréal থেকে ইতালিতে ফেরা · 11 L’Oréal-এর পরে গ্রন্থাগার · 12 Gillette & L’Oréal, Women USA — Vol. IV · 13 L’Oréal, মার্চেন্ডাইজার আর মার্চেন্ডাইজিং · 14 L’Oréal-এর মানুষ · 15 Gillette-এর চুল বনাম L’Oréal Garnier · 16 Gillette & L’Oréal, Women USA — Vol. V · 17 Revlon-এ সাক্ষাৎকার · 18 Gillette-এর মুখ বনাম L’Oréal · 19 শুধু তাদেরই জন্য, Gillette-এর চোখে · 20 Gillette & L’Oréal, Women USA — Vol. VI · 21 লোম, L’Oréal আর Gillette-এর মাঝখানে