যে ছেলেটি হাসতে শিখেছিল

যে ছেলেটি হাসতে শিখেছিল — Gillette, রোগীর গাথা, অধ্যায় 09

Gillette, রোগীর গাথা · বাংলা সংস্করণ  ·  নং 09

যে ছেলেটি হাসতে শিখেছিল

একটি মানসিক বিরতি


আমার প্রথম মুখোশ মিথ্যে হয়ে আসেনি।

এসেছিল হাসি হয়ে।

কেউ আমাকে বসিয়ে বলেনি, “তুমি যা, তা লুকিয়ে রাখো।”

শিশুরা অত সরাসরি নির্দেশ কমই পায়। শিক্ষাগুলো আসে অনুমোদনের ছদ্মবেশে। একটা চাহনি। একবার মাথা নাড়া। একটা নীরবতা, যা ঠিকঠাক আচরণ করলেই মিলিয়ে যায়।

আমি অল্প বয়সেই শিখে গিয়েছিলাম, আমি হাসলে লোকে স্বস্তি পায়।

বড়দের কম চিন্তিত দেখাত।

ঘরগুলো শান্ত হয়ে আসত।

টানটান ভাবটা আলগা হত।

আমি এক অদ্ভুত ধরনের ক্ষমতা আবিষ্কার করলাম। গায়ের জোরের ক্ষমতা নয়। কর্তৃত্বের ক্ষমতা নয়। অন্যদের জীবন সহজ করে দেওয়ার ক্ষমতা।

প্রথম প্রথম ব্যাপারটা নির্দোষই লাগত।

গাছ যেমন রোদ চায়, শিশু তেমনই চায় সম্প্রীতি।

কিন্তু প্রতিটি উপহারেরই একটা লুকোনো দাম থাকে।

চারপাশের আবেগের আবহাওয়া যত পড়তে শিখলাম, নিজের জলবায়ুর দিকে তত কম মন দিলাম।

আমি জানতাম অন্যরা কখন হতাশ।

জানতাম কখন তারা রেগে আছে।

জানতাম কখন তাদের আশ্বাস দরকার।

কিন্তু আমার নিজের কী দরকার, থেমে সে প্রশ্ন কমই করেছি।

মানিয়ে নেওয়ায় আমি দক্ষ হয়ে উঠলাম।

দক্ষতাটা আমার খুব কাজে লাগবে।

বহু বছর পরে তা আমাকে নানা সংস্কৃতি, দেশ, ভাষা আর মহাদেশ জুড়ে কাজ করতে সাহায্য করবে।

কিন্তু পেশাগত সম্পদ হয়ে ওঠার আগে তা ছিল নিছক টিকে থাকার কৌশল।

একটা ছেলে, যে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

মুখোশের সমস্যা এই নয় যে তারা অন্যদের ঠকায়।

সমস্যা হল, তারা কাজ দেয়।

এত ভালো কাজ দেয় যে শেষমেশ লোকে অভিনয়টাকেই পুরস্কার দিতে শুরু করে।

আর একবার যখন কোনো অভিনয় থেকে স্নেহ, অনুমোদন আর আপন হওয়ার বোধ আসতে শুরু করে, তখন তা খুলে ফেলা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।

দর্শক হারানোর ঝুঁকি থাকে।

তাই আমি হেসেই চললাম।

সুখী ছিলাম বলে নয়।

ওটাই প্রত্যাশিত ছিল বলে।

আর সেই হাসিমুখ শিশুটির ভেতরে কোথাও বাস করত একটা প্রশ্ন, যা দশকের পর দশক আমার পিছু নেবে:

সবাই যদি মুখোশটাকেই ভালোবাসে, তবে নিচের মুখটার কী হয়?


ফের্দিনান্দো

PDF ← Gillette, রোগীর গাথা