ধার করা মুখ

ধার করা মুখ — Gillette, রোগীর গাথা, অধ্যায় 11

Gillette, রোগীর গাথা · বাংলা সংস্করণ  ·  নং 11

ধার করা মুখ

একটি মানসিক বিরতি


নিজে হয়ে ওঠার আগে আমরা হয়ে উঠি বাকি সবাই।

বাবা-মা।

শিক্ষক।

বন্ধু।

বস।

সঙ্গী।

পরিচয় বিলোনোয় পৃথিবী বড় উদার।

আমাদের কী হয়ে ওঠা উচিত, তার হাজারো তৈরি সংস্করণ সে বাড়িয়ে দেয়।

ভালো ছেলে।

সম্মানীয় পুরুষ।

সফল পেশাদার।

নির্ভরযোগ্য স্বামী।

পুরস্কারগুলো স্পষ্ট।

অনুমোদন।

স্বীকৃতি।

আপন হওয়া।

দামটা অত চোখে পড়ে না।

দূরত্ব।

তুমি যা, আর তুমি যার অভিনয় করো — এ দুয়ের মাঝখানের দূরত্ব।

আমার যখন বয়স কম ছিল, অভিনয়কে দেখতে লাগত আশ্চর্য রকম সাফল্যের মতো।

আমি শিখেছিলাম কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়।

কীভাবে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।

প্রতিটি ঘরে যে ভাষা প্রত্যাশিত, তা কীভাবে বলতে হয়।

এ এমন এক ক্ষমতা, যা সারা জীবন আমার সামনে দরজা খুলে দিয়েছে।

তবু প্রতিটি ধার করা মুখের সঙ্গে আসত ছোট্ট একটা ঋণ।

যে ঋণ শোধ হত অকৃত্রিমতা দিয়ে।

এক টুকরো এক টুকরো করে।

নাটকীয় কিছু নয়।

কোনো বিপর্যয় নয়।

ক্ষয়টা ঘটত নিঃশব্দে।

জল যেভাবে পাথরের গড়ন বদলে দেয়।

বছর যেভাবে নিশ্চয়তার গড়ন বদলে দেয়।

পিছন ফিরে তাকিয়ে বুঝি, বেশির ভাগ মানুষ ব্যর্থতার ফাঁদে আটকা পড়ে না।

তারা আটকা পড়ে সাফল্যের ফাঁদে।

সাফল্য ভুল রাস্তাটা ছেড়ে আসা কঠিন করে তোলে।

হাততালি হয়ে ওঠে সাক্ষ্য।

অর্জনগুলো হয়ে ওঠে প্রমাণ।

ভূমিকাটা হয়ে ওঠে পরিচয়।

আর শেষমেশ মুখোশটা যত যত্ন পায়, যে মানুষটা সেটা পরে আছে সে তত পায় না।

উপলব্ধিটা হঠাৎ আসেনি।

এসেছিল টুকরো টুকরো হয়ে।

বছরের পর বছর জুড়ে।

দেশের পর দেশ জুড়ে।

সম্পর্কের পর সম্পর্ক জুড়ে।

নীরবতার দীর্ঘ দীর্ঘ পর্ব জুড়ে।

কিন্তু ভিতটা গাঁথা হয়েছিল ঢের আগে।

গাঁথা হয়েছিল সেই প্রথম বছরগুলোয়, যখন আমি শিখেছিলাম, অন্যদের যা দরকার তা-ই হয়ে উঠলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা যায়।

পৃথিবী হাততালি দিল।

মুখোশটা ফুলেফেঁপে উঠল।

মুখটা অপেক্ষা করল।

ধৈর্য ধরে।

নিজের কথা বলার পালার জন্য।


ফের্দিনান্দো

PDF ← Gillette, রোগীর গাথা